নিজস্ব প্রতিবেদক:
নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সংলাপের নামে জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা’ করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর মুক্তি দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য, জনগণের দৃষ্টিকে অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কত তামাশা করছেন। রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে তিনি সংলাপও ডাকাচ্ছেন। আল্টিমেটলি যে নির্বাচন কমিশন গঠন হবে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। তারা একটা তামাশা করে যাচ্ছে।
আওয়ামী লীগ আর করোনার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই— এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘করোনার যেমন রূপান্তর হচ্ছে আওয়ামী লীগও নিজে রূপান্তর ঘটায়। আওয়ামী লীগও মানুষের জীবন কেড়ে নেয়, করোনাও মানুষের জীবন কেড়ে নেয়। আজকে বাংলাদেশের জীবন কাড়ার ব্যবস্থা করেছে এই নব্য বাকশাল আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য, চিরদিন টিকে থাকার জন্য যা কিছু করার তিনি সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেইটা আর লাভ হবে না। বাংলাদেশের মানুষ তো জানেই, আস্তে আস্তে বিশ্বের কাছে সরকারের বোরকা খুলতে শুরু করেছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলবো— আপনার সরকারের সেই বোরকা খোলার আগে পদত্যাগ করুন। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তাকে সুচিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিন। রুহুল আমিন গাজীকে মুক্তি দিন। তা না হলে যখন সব কিছু উন্মোচন হয়ে যাবে, তখন পালিয়েও নিজের ভূত আর ঢাকতে পারবেন না।’
জ্যেষ্ঠতা না মেনে হাইকোর্টের বিচারপতিদের পদোন্নতি দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘হাইকোর্টের বিচার নিয়ে অনেকেই বলেন, কথা তো হবেই। কয়েকদিন আগে ১৯ জনকে টপকে আপিল ডিভিশনে বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের বিশ্বস্ত লোক হাইকোর্টে দরকার। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। এই কারণে এ ধরনের বেআইনি কাজ তারা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকার একের পর এক কালাকানুন তৈরি করছে। কেন এই সরকার এত কালাকানুন তৈরি করছে? এই কালাকানুন তৈরি করা হলে আরেকটি নিকৃষ্ট অত্যাচার সাংবাদিকদের ওপর নেমে আসবে। আর এই কারণে তারা আরেকটি ব্লাক ল’ তৈরি করতে চায়।
বিএফইউজের সভাপতি এম আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ, কামালউদ্দীন সবুজ, নুরুল আমিন রোকন, ইলিয়াস খান, কাদের গনি চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, রাশিদুক হক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
Leave a Reply